Menu

ইয়া দেবী সর্বভূতেষু | Ja Devi Sarbhabhuteshu

ya devi _illustration by Tridib ghosh

By Anirban Dutta

Illustration by Tridib Ghosh

“বীরেনদা, ও বীরেনদা .. বাড়ি আছেন?”
ছাদ থেকে একটা গুরুগম্ভীর গলা ভেসে এলো “ওপরে চলে আয়” |
ছাদে উঠে আমার পিলে চমকে একপ্রকার চোদ্দ ! দেখি, বীরেনদা ছাদের মাথায় কাপড় টাঙানোর বাঁশ বেয়ে ওঠা নামা প্র্যাক্টিস করছেন | আমাকে দেখে ঝপ করে লাফ দিয়ে নেমে, কাঁধের গামছা দিয়ে কপালের বিন্দু ঘাম মুছে, স্মিত হাসলেন | তারপর বললেন “না না, পাকিস্তানের দিক থেকে কোনো মিসাইল এদিকপানে উড়ে আসছে কিনা সেই নজরদারি করতে টঙে উঠিনি রে | ওপরমহল থেকে আদেশ এসেছে | আজকাল নাকি বেতারের তার কেটে গ্যাছে, কেউ আর রেডিও শোনে না, মারফি এখন মিউজিয়ামে ! তায় আবার Channel বাংলার চাপ .. এরোমা থেরাপি করা মা দূর্গা সেখানে ভোর পাঁচটা থেকে নাচানাচি করে চ্যানেলের টি.আর.পি তুঙ্গে তুলে দিয়েছেন | সুতরাং ফরমান এসেছে, এবছর থেকে ট্র্যাফিক সিগন্যাল-এর মাথায় বসে চণ্ডীপাঠ করতে হবে | তাও আবার দেবীপক্ষের এক সপ্তাহ আগে থেকেই | কি চাপ বল তো ! এই বুড়ো বয়েসে কি আর সেই মাজার জোর আছে টানা অতক্ষণ পোলের মাথায় বসে থাকার? তাই একটু কসরত করে নিচ্ছি |”
আমি রীতিমতো হতভম্ব … মাথা চুলকে বললাম, “একটা পোলের মাথায় বসে গোটা ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’-টা করবেন কি করে !!”
বীরেনদা অট্টহাস্য করে বলে উঠলেন “ওই দ্যাখ … ওই যে দ্বিজেন, ওই হেমন্ত, শ্যামল, পঙ্কজ …সবাই প্র্যাক্টিস করছে নিজের নিজের ছাদে … প্রতিমা, উৎপলা, সুপ্রীতিরা কি করবে, এখনো ভেবে উঠতে পারে নি … ওদের জন্য বোধহয় মোড়া- ফোড়া কিছু একটার ব্যবস্থা করবে | দাঁড়া, আমি আরেকটু ঝালিয়ে নিই ….
আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির, ধরণীর বহিরাকাশে অন্তর্হিত মেঘমালা … আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি …”
পাঁজরের কাছটায় কেমন ব্যাথা করে উঠলো … ধড়মড় করে উঠে বসে দেখলাম, বৌ কনুই দিয়ে গুতোচ্ছে ..”আর নাক না ডেকে, এবার ওঠো .. মহালয়া শুরু হয়ে গ্যাছে তো অনেকখন |”

This Post Has One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo Header Menu